গৌতম লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
গৌতম লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

বাঙ্গালি করেছে ভগবান রে (গান)

গান- বাঙ্গালি করেছে ভগবান রে
ভাব- প্রচলিত
কথা ও সুর- গৌতম চট্টোপাধ্যায়


রেকর্ডিং

প্রথম প্রকাশ- ১৯৯৯
অ্যালবাম- ক্ষ্যাপার গান
শিল্পী- গৌতম চট্টোপাধ্যায়

কথা
ও মন রে, ও মন রে
ও মন, ও মন, ও মন রে...


বাঙ্গালি করেছে ভগবান রে

আমি যদি জার্মান হতাম
বোতল বোতল বিয়ার খেতাম
আবার কনসার্টে পিয়ানো শুনতাম
দেখতিস আমার মান রে,
বাঙ্গালি করেছে ভগবান রে।

আমি যদি ফ্রেঞ্চ হতাম
চিজ রুটি আর ওয়াইন খেতাম
গায়ে পারফিউম মেখে করতাম
সংস্কৃতির ভান রে,
বাঙ্গালি করেছে ভগবান রে।

ও মন রে...

আমি যদি ইটালিয়ান হতাম
পিৎজা কাপুচিনো খেতাম
ভূমধ্য সাগরে আবার করতাম
আমি স্নান রে,
বাঙ্গালি করেছে ভগবান রে।

আমি যদি ব্রিটিশ হতাম
কাউন্টি লিগে চিকেন খেতাম
আবার রানীর থেকে নাইটহুড পেতাম
করতাম হুইস্কি পান রে,
বাঙ্গালি করেছে ভগবান রে।

ও মন রে...

আমি যদি স্প্যানিশ হতাম
ফ্ল্যামেঙ্কো গিটার বাজাইতাম
বুল ফাইটিং করতাম দেখতি
মাতাদরের জান রে,
বাঙ্গালি করেছে ভগবান রে।

আমি যদি আমেরিকান হতাম
দাদাগিরি খুব ফলাতাম
আবার স্যাংশানের ভয় দেখিয়ে
মলে দিতাম কান রে,
বাঙ্গালি করেছে ভগবান রে।

ও মন রে...

বঙ্গদেশে জন্ম হল
বাঙালি হয়ে থাকতে হল
পেটে ভীষণ খিদা তবু
মুখে বাউল গান রে,
বাঙ্গালি করেছে ভগবান রে।

পাখিদের সুরে গান (গান)

গান- পাখিদের সুরে গান
কথা ও সুর- গৌতম চট্টোপাধ্যায়

রেকর্ডিং

প্রথম প্রকাশ- ১৯৯৯
অ্যালবাম- ক্ষ্যাপার গান
শিল্পী- ক্রস উইন্ডস


কথা
চাঁদ ডুবে যায়, পাখির গানে হয় দিন শুরু
তবুও কাঁপে বুক দুরুদুরু, এ সকাল কে চায়?
বেলাশেষে রাত ক'বে হেসে বিদায়

শ্রান্ত তখন, ছকে বাঁধা দিন কাটে যখন
একঘেয়েমিতে ক্লান্ত মন, এ যে বিষম দায়
স্রোতে গা ভাসাই, জানি লোক হাসাই, হায়!

কেন দশটা আর পাঁচটার এ জাঁতাকলে পড়ে সকলে
বেসামাল আমরা সবাই?
চেনা ছোট খোপ, চেনা ঘেরাটোপ ছেড়ে বেরিয়ে, এড়িয়ে
দূরে বহুদূরে যেতে চাই!
জানি না তাই শেষ কোথায়...

কেউ যদি চাই পাখিদের মত দিন যাপন,
করে নিতে পারি আজ আপন, পাখিদের সুরে গাই
তবে ছোট ছোট আশা, ছোট ভালোবাসা পাই।

হোক তবে তাই, গ্লানি নয় আর স্বপ্নহীন
জীবনে যা আছে তা হোক রঙিন, যদি আমরাই
সাদামাটা এই ছন্দে থেকেও পারি তাই

কেন দশটা আর পাঁচটার এ জাঁতাকলে পড়ে সকলে
বেসামাল আমরা সবাই?
চেনা রাস্তায় ওই পাখিদের মত দিনযাপন, করে আজ আপন
পাখিদের সুরে সুরে গাই
এভাবে তাই পালটিয়ে পাই...

টুকরো কথা
গৌতম চট্টোপাধ্যায়ের লেখা সর্বশেষ গান খুব সম্ভবত এইটাই। একটি অনুষ্ঠানে গড়ের মাঠ-এর সুব্রত ঘোষ এমনটাই বলেন।

ঘরে ফেরার গান (গান)

গান- ঘরে ফেরার গান
কথা ও সুর- গৌতম চট্টোপাধ্যায়, পল্লব রায়, সুদীপ চট্টোপাধ্যায়

রেকর্ডিং

প্রথম প্রকাশ- ১৯৯৯
অ্যালবাম- ক্ষ্যাপার গান
শিল্পী- চন্দ্রাণী বন্দ্যোপাধ্যায়

দ্বিতীয় প্রকাশ- ২০০৩
অ্যালবাম- ঘরে ফেরার গান
শিল্পী- পরমা বন্দ্যোপাধ্যায়


কথা
আমি গাই ঘরে ফেরার গান
উতলা কেন এ প্রাণ
শুধু যে ডাকে, ফিরে আমাকে
বিদেশ বিভূঁইয়ে পড়ে আছি
তবু ছাড়েনা কেন ছাড়েনা পিছুটান।

আমি তাই এখনো ক্লান্তিহীন
চলেছি রাত্রি দিন
শুনি চমকে, যাই থমকে
কোথা হতে যেন ভেসে আসে
শুধু চেনা মুখ, চেনা মন মাঝে অমলিন।

ফিরব বললে ফেরা যায় নাকি
পেরিয়েছ দেশ-কাল জানো নাকি এসময়

এখনও সামনে পথ হাঁটা বাকি
চাইলেও দিতে পারবে না ফাঁকি নিশ্চয়...

আমি চাই ফিরে যেতে সেই গাঁয়
বাঁধানো বটের ছায়,
সেই নদীটির হাওয়া ঝিরঝির
মনের গভীরে পড়ে থাকা যত
স্মৃতি বিস্মৃতি কখনো কি ভোলা যায়?

আমি প্রায়ই এখনো খুঁজি সে দেশ
জানি নেই অবশেষ
মরীচিকা হায়, স্বপ্ন দেখায়
শৈশবে আর ফেরা যাবে না তো
নেই পথ নেই হারিয়ে গেছে সে দেশ।

ফিরব বললে ফেরা যায় নাকি
পেরিয়েছ দেশ-কাল জানো নাকি এসময়?

এখনও সামনে পথ হাঁটা বাকি
চাইলেও দিতে পারবেনা ফাঁকি নিশ্চয়...

টুকরো কথা
২০০৮ সালে প্রীতম চক্রবর্তী 'না বলিয়া' এ গানের সুর ভ্রম বলে একটি হিন্দি ছবির গানে ব্যবহার করেন। গানটি ছিল "জানে কিঁউ তনহা হো গয়ে", গায়ক ছিলেন সোনু নিগম।

ময়মনসিংহ গীতিকা (গান)

গান- ময়মনসিংহ গীতিকা
কথা- প্রচলিত
সুর- গৌতম চট্টোপাধ্যায়

রেকর্ড 

প্রথম প্রকাশ- ১৯৯৬
অ্যালবাম- ঝরা সময়ের গান
শিল্পী- অনুপ বিশ্বাস, বাদল সরকার


কথা

নয়াবাড়ি লইয়ারে বাইদ্যা লাগাইলো বাইঙ্গন,
সেই বাইঙ্গন তুলতে কইন্যা জুড়িল কাইন্দন গো, জুড়িল কাইন্দন।

কাইন্দোনা কাইন্দোনা কইন্যা না কান্দিও আর,
সেই বাইঙ্গন বেইচ্যা দিয়াম তোমার গলার হার গো, তোমার গলার হার।

নয়াবাড়ি লইয়ারে বাইদ্যা লাগাইলো কচু,
সেই কচু বেইচ্যা দিয়াম তোমার হাতের বাজু গো, তোমার হাতের বাজু।

নয়াবাড়ি লইয়ারে
বাইদ্যা লাগাইলো কলা,
সেই কলা বেইচ্যা দিয়াম তোমার গলার মালা গো, তোমার গলার মালা।

নয়াবাড়ি লইয়ারে
বাইদ্যা লাগাইলো চৌকারি,
চৌদিকে মালঞ্চের বেড়া আয়না সারি সারি গো, আয়না সারি সারি।

হাঁস মারলাম কৈতর মারলাম মাইচ্ছা মারলাম টিয়া, 

ভালো কইর‍্যা রাইন্ধ বাইঙ্গন কালা জিরা দিয়া গো, কালা জিরা দিয়া।

কত কী করার আছে বাকি (গান)

গান- কত কী করার আছে বাকি
কথা ও সুর- গৌতম চট্টোপাধ্যায়


রেকর্ড 

প্রথম প্রকাশ- ১৯৯৭
অ্যালবাম- মায়া
শিল্পী- বনি

দ্বিতীয় প্রকাশ- ২০০০
ছায়াছবি- কিছু সংলাপ কিছু প্রলাপ
শিল্পী- গৌতম চট্টোপাধ্যায়

কথা
কত কী করার আছে বাকি
বেলা বয়ে যায়
কী করে এভাবে আমি থাকি

ভেবে ভেবে সারাদিন কাটে
বলো কী উপায়,
তোমারও কি এরকম ঘটে?

ঠিক কী যে চাই, খুঁজে বেড়াই
কূল কিনারা ভেবে না পাই

কী করি বলো না,
হা-হুতাশ গেল না!

সব ছেড়ে ছুড়ে বহুদূরে
সরে যাই তবে,
আর কী বা হবে?

কিছু তো হল না এ জীবনে
বৃথা কালক্ষয়
তোমারও কি এমন হয় মনে?

নিঃসঙ্গতা ঘিরে আসে
কঠিন এ সময়
তোমারও কি কেউ নেই পাশে?

ঠিক কী যে চাই খুঁজে বেড়াই...

কত কী করার আছে বাকি

টুকরো কথা

অশোক বিশ্বনাথন পরিচালিত কিছু সংলাপ কিছু প্রলাপ ছবিতে গানটি গেয়েছিলেন গৌতম। ছবির সঙ্গীত পরিচালকও ছিলেন তিনি। নীচের লিঙ্কে গানটি শোনা যাবে।

এ কী কথা শুনি হায় (গান)

গান- এ কী কথা শুনি হায়
কথা ও সুর- তাপস দাস, গৌতম চট্টোপাধ্যায়

রেকর্ডিং

প্রথম প্রকাশ- ১৯৯৭
অ্যালবাম- মায়া
শিল্পী- লক্ষীছাড়া

কথা

বোঝো কি না বোঝো, সে কথা বড় নয়
মন খুলে আর প্রাণ ভরে হাসি হাসতে হয়।
কে কী ভাববে, মনে করবে তা করলে ভয়,
নতুন কিছু কী করে করবে জয়?

শুনতে চাও বা না চাও, তাতে কি এসে যায়
এই গানের সুর দূরে বহুদূরে ভেসে যায়
এ সুর বন্ধ করার চেষ্টা কেন হায়,
নতুন কিছু কী করে করবে জয়?

এ কী কথা শুনি হায়,
জাত কুল মান সব যায়,
গেল গেল গেল, হায় হায়,
সব বুঝি রসাতলে যায়!

ঠিক না বেঠিক, সত্যি মিথ্যে তা জানি না
ধরাবাঁধা ছকে নিয়মটা মানি না
দেখো তুমি আসতে পারো কি, পারো না
নতুন কিছু কী করে করবে জয়?

শুনতে চাও বা না চাও, তাতে কি এসে যায়
এই গানের সুর দূরে বহুদূরে ভেসে যায়
এ সুর বন্ধ করার চেষ্টা কেন হায়,
নতুন কিছু কী করে করবে জয়?

এ কী কথা শুনি হায়,
জাত কুল মান সব যায়,
গেল গেল গেল, হায় হায়,
সব বুঝি রসাতলে যায়!

টেলিফোন (গান)

গান- টেলিফোন
কথা ও সুর- গৌতম চট্টোপাধ্যায়

রেকর্ডিং

প্রথম প্রকাশ- ১৯৯৭
অ্যালবাম- মায়া
শিল্পী- গৌতম চট্টোপাধ্যায়

দ্বিতীয় প্রকাশ- ২০০২
ছায়াছবি- নীল নির্জনে
শিল্পী- ক্যাকটাস

কথা
আশায় আশায় বসে আছি
ওরে আমার মন
কখন তোমার আসবে টেলিফোন।

কালা যখন তখন করো ডায়াল
বুঝি না ছাই তোমার খেয়াল
তোমার আমায় এই যে দেয়াল
ভাঙবে রে তখন,
তখন ভাবি আসবে টেলিফোন।

তোমার সঙ্গে দেখতে পেলে
পাড়া পড়শি মন্দ বলে
তারচেয়ে রাত্রিবেলা সবাই যখন
ঘুমে অচেতন,
তখন ভাবি আসবে টেলিফোন।

তারচেয়ে ভালো তোমার টেলিফোন।

তোমার সামনে থাকলে আমি
কি হয় জানেন অন্তর্যামী
দুরুদুরু বক্ষ জাগে
চিত্তে উচাটন,
তারচেয়ে ভালো তোমার টেলিফোন।

ক্রিং ক্রিং ক্রিং ক্রিং মধুর ধ্বনি
শুনি তোমার আগমনী
তাতে ধন্য হয় যে রাধারানী
ধন্য এ জীবন,
সবচেয়ে ভালো তোমার টেলিফোন।

টুকরো কথা


[১]'টেলিফোন' আর 'পৃথিবীটা নাকি ছোট হতে হতে' খুব সম্ভবত গৌতম চট্টোপাধ্যায়ের সবচাইতে বিখ্যাত দুটো গান। বাউল-জ্যাজ নিয়ে করা গৌতমের কাজের সোনালি ফসল বলা চলে এই গানকে। এই কাল্ট গানের একটা লাইন অনুসারে ২০১৪ সালে একটি বাংলা ছবির নাম দেওয়া হয়েছিল কখন তোমার আসবে টেলিফোন। অভিনয় করেন অর্জুন চক্রবর্তী।

[২] দ্বিতীয় ভার্সে 'কালা যখন তখন করো ডায়াল' লাইনে 'কালা' শব্দটা ব্যবহার কেন করেছিলেন গৌতম? সে কি টেলিফোনকে একালের কৃষ্ণের বাঁশির বদলি হিসেবে বোঝানোর জন্য? নাকি সেকালের অল-ব্ল্যাক রোটারি টেলিফোন যন্ত্রের উপস্থিতি বোঝানোর জন্য? শালগ্রাম শিলার মতই যার উপস্থিতি।

আমার প্রিয়া কাফে (গান)

গান- আমার প্রিয়া কাফে
কথা ও সুর- গৌতম চট্টোপাধ্যায়


রেকর্ড 

প্রথম প্রকাশ- ১৯৯৬
অ্যালবাম- ঝরা সময়ের গান
শিল্পী- গৌতম চট্টোপাধ্যায়

দ্বিতীয় প্রকাশ- ২০০০
ছায়াছবি- কিছু সংলাপ কিছু প্রলাপ
শিল্পী- গৌতম চট্টোপাধ্যায়

কথা

কাঁপে কাঁপে
আমার হিয়া কাঁপে

এ কী যে কান্ড
এ কী যে কান্ড
এ কী কান্ড, সব পন্ড, এ ব্রহ্মান্ড
শূণ্য লাগে
তুমি ছাড়া শূণ্য লাগে।

কাঁপে কাঁপে
আমার হিয়া কাঁপে

কী যে ছাই চিন্তা
কী যে ছাই চিন্তা
কী ছাই চিন্তা, ওহে কান্তা, পোড়ে প্রাণটা
দুঃখ জাগে
তুমি ছাড়া শূণ্য লাগে।

কাঁপে কাঁপে
আমার হিয়া কাঁপে।

কপালটা মন্দ
কপালটা মন্দ
কপাল মন্দ, লাগে ধন্দ, কাটে ছন্দ
বিরহ রাগে
তুমি ছাড়া শূণ্য লাগে।

কাঁপে কাঁপে
আমার হিয়া কাঁপে

শিরে সংক্রান্তি
শিরে সংক্রান্তি
হে অশান্তি, দাও ক্ষান্তি সব ভ্রান্তি
দূর হোক আগে
কফি ছাড়া শূণ্য লাগে।

কাফে কাফে
আমার প্রিয়া কাফে।

টুকরো কথা

(১) ১৯৬৪ সালে পুয়ের্তো রিকো জাত বিখ্যাত লাতিনো কম্পোজার এডি পামিয়েরি বের করেন তাঁর অ্যালবাম 'Echando pa'lante' এই অ্যালবামের জন্যই গায়ক ইসমেইল কুইনতানা গান 'Café' গানটা। এই 'Café' অনুসরণেই গৌতম আশির দশকের কোনও এক সময়ে বানিয়েছিলেন 'কাঁপে, কাঁপে / আমার হিয়া কাঁপে' (নাকি "Cup-এ, cup-এ/ আমার হিয়া কাঁপে" ;) ?)

(২) নীচের লিঙ্কে অশোক বিশ্বনাথন পরিচালিত কিছু সংলাপ কিছু প্রলাপ ছবিতে স্বয়ং গৌতম চট্টোর গলায় শোনা যাবে গানটা। ওই ছবির সঙ্গীত পরিচালকও ছিলেন গৌতম।


তোমায় দিলাম (গান)

গান- তোমায় দিলাম
কথা- জয়জিৎ লাহিড়ী
সুর- সুব্রত ঘোষ


রেকর্ড 

প্রথম প্রকাশ- ১৯৯৬
অ্যালবাম- ঝরা সময়ের গান
শিল্পী- সুব্রত ঘোষ

কথা

শহরের উষ্ণতম দিনে
পিচগলা রোদ্দুরে
বৃষ্টির বিশ্বাস
তোমায় দিলাম আজ।

আর কী বা দিতে পারি?
পুরোনো মিছিলে পুরোনো ট্রামেদের সারি
ফুটপাথ ঘেঁষা বেলুন গাড়ি
সুতো বাঁধা যত লাল আর সাদা
ওরাই আমার থতমত এই শহরে,
রডোডেনড্রন
তোমায় দিলাম আজ।


কী আছে আর
গভীর রাতের নিয়ন আলোয় আলোকিত যত রেস্তোঁরা
সব থেকে উঁচু ফ্ল্যাটবাড়িটার সব থেকে উঁচু ছাদ
তোমায় দিলাম আজ।

পারবোনা দিতে
ঘাস ফুল আর ধানের গন্ধ স্নিগ্ধ যা কিছু দুহাত ভরে
আজ ফুসফুস খোঁজে পোড়া ডিজেলের আজন্ম আশ্বাস
তোমায় দিলাম আজ।

শহরের কবিতার ছবি,
সবই তোমায় দিলাম আজ।

আর কী বা দিতে পারি?
পুরোনো মিছিলে পুরোনো ট্রামেদের সারি...


তোমায় দিলাম, তোমায় দিলাম, তোমায় দিলাম।

সেই ফুলের দল (গান)

গান- সেই ফুলের দল
কথা ও সুর- গৌতম চট্টোপাধ্যায়

রেকর্ড 

প্রথম প্রকাশ- ১৯৯৬
অ্যালবাম- ঝরা সময়ের গান
শিল্পী- ঋতুপর্ণা দাস, চন্দ্রিমা মিত্র


কথা

রাবেয়া কি রুকসানা ঠিক তো মনে পড়েনা
অস্থির এ ভাবনা শুধু করে আনাগোনা।
ফেলে আসা দিন তার মিছে মনে হয়
নামে কিবা আসে যায়..
সোহাগে আদরে জানি রেখেছিল কেউ এই নাম।

আব্বা না আপা নাকি, কারো মনে পড়ে তাকি
তোমরা তা জানো নাকি, সময় দিয়েছে ফাঁকি।
অভিমানী সে মেয়েটি গেছে হারিয়ে
বুকে ভরসা নিয়ে..
সীমান্ত পেরিয়ে সে এসেছিল ছেড়ে তার গ্রাম।

জানি সে কোথায়, এই শহরে কোনও বাগানে সে হয়ে আছে ফুল
প্রতি সন্ধ্যায় পাপড়ি মেলে দিয়ে সে আবার ভোরে ঝরা বকুল।

সেই মেয়েটির মত আরেকটি মেয়ে সে তো
সন্ধ্যাপ্রদীপ দিত, যতনে গান শোনাতো।
হালকা পায়ে বেড়াত বেণী দুলিয়ে
কে যে নিল ভুলিয়ে..
খেলার সাথীরা তার খুঁজতে আসেনা আর রোজ।

লক্ষ্মী নামের মেয়ে আজও তার পথ চেয়ে
ফেলে আসা তার গাঁয়ে, মা কাঁদে মুখ লুকিয়ে
সন্ধেবেলায় শাঁখ বাজে নাতো আর-
এতে আছে কী বলার?
আজও কেউ জানেনা তো কোথায় সে হয়েছে নিখোঁজ।

জানি সে কোথায়, এই শহরের কোনও বাগানে সে হয়ে আছে ফুল
প্রতি সন্ধ্যায় পাপড়ি মেলে দিয়ে সে আবার ভোরে ঝরা বকুল।

লক্ষ্মী, রুকসানারা, আরও যত ঘরছাড়া
ত্রস্ত দিশেহারা তখনই জাদুকরেরা
নিমেষে বানিয়ে দেয় বাগানের ফুল
ঠিক নির্ভুল,
এভাবে মেয়েরা সব একে একে ফুল হয়ে যায়।

নতুন বাগানে এসে নিজেকে না ভালবেসে
ফুলের দলেরা শেষে কথা বলে হেসে হেসে।
পদ্ম, গোলাপ, জুঁই, চম্পা, চামেলি,
ওলো টগর, শেফালী-
পোড়ারমুখিরা তোরা ফুল হয়ে রয়ে গেলি হায়।

জানি সে কোথায়, এই শহরের কোনও বাগানে সে হয়ে আছে ফুল
প্রতি সন্ধ্যায় পাপড়ি মেলে দিয়ে সে আবার ভোরে ঝরা বকুল।

গাইব শুধু গান (গান)

গান- গাইব শুধু গান
কথা ও সুর- গৌতম চট্টোপাধ্যায়

রেকর্ড 

প্রথম প্রকাশ- ১৯৯৬
অ্যালবাম- ঝরা সময়ের গান
শিল্পী- সুব্রত ঘোষ, বনি, ঋতুপর্ণা দাস, চন্দ্রিমা মিত্র


কথা
চাই না যা পাই চাই না, যা চাই পাই না
ভুল করেও তা চাই না
ভাঁড় ভেঙে রস খাই না
কেন মিছে মরো, ভাবা ছেড়ে দাও?

আরাম যখন হারাম তখন সয় না
মনে দখিন হাওয়া বয় না
দিব্যি আছো মজা লুটে নাও।

আমরা গাইবো শুধু গান
আমরা চাই না ভুয়ো মান
হতে চাই না শিরোনাম
আমরা গাইবো শুধু গান
থাকো ইচ্ছে হলে কিম্বা কেটে যাও।


অফিসে-বাজারে, পথে-ঘাটে যত সব চামচা
লেখে রোজ নামচা
আর চান্স পেলে দেয় খামচা
কেন মিছে মরো, ভাবা ছেড়ে দাও?

চুলোয় যাক সব ভদ্দরলোকের কৃষ্টি
আসুক তেড়ে বৃষ্টি
ফষ্টিনষ্টি ভাসিয়ে রসাতলে দাও।

আমরা গাইবো শুধু গান
আমরা চাই না ভুয়ো মান
হতে চাই না শিরোনাম
আমরা গাইবো শুধু গান
থাকো ইচ্ছে হলে কিম্বা কেটে যাও।

পৃথিবীটা নাকি ছোট হতে হতে (গান)

গান- পৃথিবীটা নাকি ছোট হতে হতে
কথা ও সুর- গৌতম চট্টোপাধ্যায়, পল্লব রায়

রেকর্ডিং

প্রথম প্রকাশ- ১৯৯৫
অ্যালবাম- আবার বছর কুড়ি পরে
শিল্পী- ক্রস উইন্ডস

কথা

পৃথিবীটা নাকি ছোট হতে হতে
স্যাটেলাইট আর কেব্‌লের হাতে
ড্রয়িংরুমে রাখা বোকা বাক্সতে বন্দী
আ হা হা হা আ হা

ঘরে বসে সারা দুনিয়ার সাথে
যোগাযোগ আজ হাতের মুঠোতে
ঘুচে গেছে দেশ কাল সীমানার গণ্ডি
আ হা হা হা আ হা

ভেবে দেখেছো কি,
তারারাও যত আলোকবর্ষ দূরে
তারও দূরে
তুমি আর আমি যাই ক্রমে সরে সরে।


সারি সারি মুখ আসে আর যায়
নেশাতুর চোখ টিভি পর্দায়
পোকামাকড়ের আগুনের সাথে সন্ধি
আ হা হা হা আ হা

পাশাপাশি বসে একসাথে দেখা
একসাথে নয় আসলেতে একা
তোমার আমার ফারাকের নয়া ফন্দি
আ হা হা হা আ হা

ভেবে দেখেছ কি...

স্বপ্ন বেচার চোরা কারবার
জায়গা তো নেই তোমার আমার
চোখ ধাঁধানোর এই খেলা শুধু ভঙ্গি
আ হা হা হা আ হা

তার চেয়ে এসো খোলা জানালায়
পথ ভুল করে কোনও রাস্তায়
হয়ত পেলেও পেতে পারি আরো সঙ্গী
আ হা হা হা আ হা

ভেবে দেখেছ কি...

টুকরো কথা

[১] অরুণেন্দু দাস এই গান প্রথম শোনার বর্ণনা করেছেন এভাবে: "তখন ইয়াং জেনারেশন কিছু কিচু শুনেছে গৌতমের গান। সেদিনই গৌতম বলল 'একটা নতুন গান শোনাচ্ছি। গিটারটা তো বাজানো হয় না আর, তবুও চেষ্টা করছি।' গানটা আমায় নাড়িয়ে দিল। আরেকবার যখন শুনতে চাইলাম, ও বলল 'তাহলে তোমরাও আমার সঙ্গে যোগ দাও।' মিঞ্জিরি (ঋতুপর্ণা দাস) আর পরমা (বন্দ্যোপাধ্যায়) কে দিয়ে 'আহা'টা করিয়ে ও গানটা দ্বিতীয়বার শোনাল।"

[২] এ কথা এখন সবাই জানে, তাও ফর দা রেকর্ড, হিন্দি ছবি Gangster এর " ভিগি ভিগি" গানটা এই গানের সুরেই তৈরি করেছেন প্রীতম। জেমসের গাওয়া এই গানের জনপ্রিয়তা গৌতম চট্টো তথা মহীনের ঘোড়াগুলিকেই জাতীয় স্তরে প্রতিষ্ঠা করেছে আরও একবার।

এলো কি এ অসময় (গান)

গান- এলো কি এ অসময়
কথা ও সুর- গৌতম চট্টোপাধ্যায়

রেকর্ডিং

প্রথম প্রকাশ- ১৯৯৫
অ্যালবাম- আবার বছর কুড়ি পরে
শিল্পী- অন্তরা চৌধুরী

কথা

এলো কি এ অসময়
মনে শুধু জাগে ভয়
ফিরে আর পাবো কি কখনও
তুমি আছো তবু সংশয়
গেয়ে গান যাব যে তখনও
এলোমেলো হাওয়া কেন বয়,
আকাশে চাঁদ জেগে রয়
তবু বলো বলো বলো কেন এমনও হয়?
মনে শুধু জাগে ভয়।

এলো কি এ অসময়
মনে শুধু জাগে ভয়।

কথা যা সে আছে লুকানো
এ জীবন শুধু বিস্ময়
এভাবে নিজেকে ভোলানো
জানি ভালো থাকা এ তো নয়,
আকাশে চাঁদ জেগে রয়
তবু বলো বলো বলো কেন এমনও হয়?
মনে শুধু জাগে ভয়।

এলো কি এ অসময়
মনে শুধু জাগে ভয়।

কথা দিয়া বন্ধু (গান)

গান- কথা দিয়া বন্ধু
কথা ও সুর - গৌতম চট্টোপাধ্যায়


রেকর্ডিং


প্রথম প্রকাশ- ১৯৯৫
অ্যালবাম- আবার বছর কুড়ি পরে
শিল্পী- অনুপ বিশ্বাস ও বাদল সরকার


কথা

কথা দিয়া বন্ধু ফিরা না আইলা
এ কেমন কথা, হায় কি দশা!

কানে বাজে তোমার কথা
বুকে বাজে তাই ব্যথা,
কানের কথা বুকের ব্যথা হইয়া
আমার প্রাণে জাগায় যে হতাশা।
হায়! হায়! সব হারাইয়া কান্দি তো
আশার ছলনায় ভুইল্যা গিয়া
আজি পথে বসিলাম গো-

কবে তুমি ফিরা আসিবা বন্ধু
রইলাম তার আশায়, হায় দুরাশা।

ভাইবা হইলাম আকুল
আর শুকায় যে মালার ফুল
সঙ্গে শুকাইলো মোর প্রাণটা আর মনটা
করি সব কাজে বিষম ভুল
হায়! হায়! সব হারাইয়া কান্দি তো
আশার ছলনায় ভুইল্যা গিয়া
আজি পথে বসিলাম গো-

কবে তুমি ফিরা আসিবা বন্ধু
রইলাম তার আশায়, হায় দুরাশা।


টুকরো কথা

নিছক প্রেমের গান নয় এ। এ গান হতাশার গান। গানের 'বন্ধু' হল বিপ্লব। মনে রাখতে হবে নকশালবাড়ি আন্দোলনের সময় গৌতম নিজে প্রায় দেড় বছর জেলে ছিলেন, তাঁর অতিবাম রাজনীতির কারণে। আন্দোলনের গতিপ্রকৃতি নিয়ে জেলে থাকাকালীনই তাঁর মোহভঙ্গ ঘটে।

পড়াশোনায় জলাঞ্জলি (গান)

গান- পড়াশোনায় জলাঞ্জলি
কথা ও সুর- তাপস দাস ও গৌতম চট্টোপাধ্যায়

রেকর্ডিং

প্রথম প্রকাশ- ১৯৯৫
অ্যালবাম- আবার বছর কুড়ি পরে
শিল্পী- লক্ষীছাড়া

*গানটি ক্যাসেটে "পড়াশোনার জলাঞ্জলি" নামে সঙ্কলিত ছিল।


কথা

পড়াশোনায় জলাঞ্জলি ভেবে মূর্খ বলছ কি?
তোমরা বলছ আমাদের জীবনের চার আনাই ফাঁকি।

হে, ষোল আনা থেকে যদি চার আনা যায়
হিসেব দাঁড়ায় এসে বারো আনায়,
কিন্ত বারো আনাতে আমরা খুশি
আমাদের চাওয়ার চেয়ে অনেক বেশি।

মানিনা মানবোনা, করছো ছি ছি ছি
তোমরা বলছো অবাধ্য জীবনের আট আনাই ফাঁকি।

হে ষোল আনা থেকে যদি আট আনা যায়
হিসেব দাঁড়ায় এসে সেই আট আনায়,
কিন্ত আট আনাতে আমরা খুশি
আমাদের চাওয়ার চেয়ে অনেক বেশি।

আমাদের পরকাল ঝরঝরে ভেবে দুঃখ করছ কি?
তোমরা বলছ এলোমেলো জীবনের বারো আনাই ফাঁকি।

হে ষোল আনা থেকে যদি বারো আনা যায়
হিসেব দাঁড়ায় এসে মোটে চার আনায়,
কিন্ত চার আনাতে আমরা খুশি
আমাদের চাওয়ার চেয়ে অনেক বেশি !

ভালো, ভালোবাসা তোমরা জানো কি?
ভালোবাসতে না জানলে জীবনের ষোল আনাই ফাঁকি !

হে ষোল আনা থেকে যদি ষোল আনা যায়
হিসেবটা কষে দেখো দাড়াও কোথায় !
শুধু শূন্য, শূন্য, শূন্য রাশিরাশি !
তোমাদের কথা ভেবে আমরা হাসি...



টুকরো কথা

[১] গানটি আসলে গৌতম চট্টোপাধ্যায় পরিচালিত একটি সিনেমার জন্য লেখা হয়, যা কোনওদিনও তৈরি হয় নি।

[২] এ গান সম্পর্কে ক্যাসেটের সাথে দেওয়া বুকলেটে বলা হয়েছে: " 'লক্ষীছাড়া' এই পাঁচজন- সাম্য গোস্বামী, পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়, অভিষেক আচার্য-চৌধুরী, অংশুমান সরকার আর গৌরব চট্টোপাধ্যায়- বয়স যাদের বারো থেকে সতেরোয়... ওরা নিশ্চিত জানে, কাক-বক পাখিকূল ফের উড়ে যাবে এই গানে।" পরমব্রত চট্টোপাধ্যায় হলেন এখনকার অভিনেতা পরমব্রত আর গৌরব চট্টোপাধ্যায় ওরফে গাবু, বর্তমানে লক্ষীছাড়ার ড্রামার ও গৌতমের পুত্র।

এই মূহুর্তে (গান)

গান- এই মূহুর্তে
কথা ও সুর : গৌতম চট্টোপাধ্যায়


রেকর্ড

প্রথম প্রকাশ- ১৯৯৭
অ্যালবাম- মায়া
শিল্পী- রাজা বন্দ্যোপাধ্যায়, গৌতম চট্টোপাধ্যায় ও বনি


কথা

এই মুহূর্তে
ভীতু মানুষের ভীড়ে বাসভূমি অস্থির এই মুহূর্তে,
কাঁটা তার পেরিয়ে প্রহরা এড়িয়ে এই মুহূর্তে,
দলে দলে হেঁটে যায় বিদেশের সীমানায় এই মুহূর্তে,
নতুন ঠিকানা চাই যেখানে সবার ঠাঁই এই মুহূর্তে,

এই মুহূর্তে কোনও অলিখিত শর্তে
গোপনে গোপনে চলে লেনদেন বিকিকিনি যত মারনাস্ত্র
এই মুহূর্তে কোনও ভাঙা দেশ জুড়তে
দুখী মানুষের শোকে কনসার্টে গান গায় কত মায়েস্ত্রো।

পারিনা পারিনা কেন বুঝতে এ কী প্রপঞ্চ মায়া
এ বিশ্ব রূপ দেখে চুপ ক'রে থাকি যদি আমি নেহাৎই বেহায়া।

এই মুহূর্তে
তৃতীয় বিশ্ব জুড়ে মন্বন্তর বাড়ে এই মুহূর্তে,
খরা আর বন্যা শিশুদের কান্না এই মুহূর্তে,
জীবনধারণে গ্লানি শুধু মিছে হয়রানি এই মুহূর্তে,
বুকের গভীর ক্ষত ছড়িয়ে ইতস্ততঃ এই মুহূর্তে,

এই মুহূর্তে কার কোন স্বার্থে
চিরহরিতের বন ফিকে হয় মহীরূহ পতনের শব্দ
এই মুহূর্তে অধিকার কাড়তে
অনেক আশার কথা বলেছিল যারা আজ সকলেই স্তব্ধ।

পারিনা পারিনা কেন বুঝতে এ কী প্রপঞ্চ মায়া
এ বিশ্ব রূপ দেখে চুপ ক'রে থাকি যদি আমি নেহাৎই বেহায়া।

এই মুহূর্তে
নিঃশ্বাসে প্রশ্বাসে ঘুন ধরে বিশ্বাসে এই মুহূর্তে,
খোলা বাজারের হাওয়া চুপিসারে করে ধাওয়া এই মুহূর্তে,
হাওয়ায় অসুখ হয় ভিতরে ভিতরে ক্ষয় এই মুহূর্তে,
তবুও মানুষ হাসে গান গায় ভালো বাসে এই মুহূর্তে,

এই মুহূর্তে এই সময়কে ধরতে
বুদ্ধিমানেরা যত বাণী দেয় শত শত সমাজটা গড়বার
এই মুহূর্তে তবু প্রতিরোধ গড়তে
বোকারা স্বপ্ন দ্যাখে আবার নতুন করে পৃথিবীটা সাজাবার।

পারিনা পারিনা কেন বুঝতে এ কী প্রপঞ্চ মায়া
এ বিশ্ব রূপ দেখে চুপ ক'রে থাকি যদি আমি নেহাৎই বেহায়া

এই মুহূর্তে
বোকারা স্বপ্ন দ্যাখে পৃথিবীটা সাজাবার এই মুহূর্তে,
বোকারা স্বপ্ন দ্যাখে পৃথিবীটা সাজাবার এই মুহূর্তে,
বোকারা স্বপ্ন দ্যাখে পৃথিবীটা সাজাবার এই মুহূর্তে,
বোকারা স্বপ্ন দ্যাখে পৃথিবীটা সাজাবার এই মুহূর্তে...

সংবিগ্ন পাখিকূল (গান)

গান- সংবিগ্ন পাখিকূল
কথা- রঞ্জন ঘোষাল
সুর- গৌতম চট্টোপাধ্যায়


রেকর্ড 

প্রথম প্রকাশ- ১৯৭৭ [১]
অ্যালবাম- সংবিগ্ন পাখিকূল ও কলকাতা বিষয়ক
শিল্পী-  মহীনের ঘোড়াগুলি (তপেশ বন্দ্যোপাধ্যায়, হারমনি- তাপস দাস, গিটার- গৌতম ও প্রদীপ চট্টোপাধ্যায়)

দ্বিতীয় প্রকাশ- ১৯৯৬ [২]
অ্যালবাম- ঝরা সময়ের গান
শিল্পী- বনি


কথা

রানওয়ে জুড়ে পড়ে আছে শুধু কেউ নেই শূন্যতা
আকাশে তখন থমকিয়ে আছে মেঘ
বেদনাবিধুর রাডারের অলসতা-
কিঞ্চিৎ সুখী পাখীদের সংবেগ।

এমন বিশাল বন্দরে বহুকাল
থামেনি আকাশবিহারী বিমান যান
এখানে ওখানে আগাছার জঞ্জাল
শূন্য ডাঙায় বায়ু বীতগতিবেগ।

এমন ছবিতে কিশোরী মানায় ভালো
ফ্রকে মুখগুঁজে কাঁদে চুল এলোমেলো...

চারণ দেখেছে এই ছবিখানি তাই
হৃদয়ে জমেছে শূন্যতা উড়ু মেঘ
চারণ ভোলেনা এই ছবিখানি তাই
বড় মায়া লাগে বড় তার উদ্বেগ।

আকাশে তখন ঝড় এসে যাবে বলে
থমকিয়ে আছে মেঘ...

মেরুন সন্ধ্যালোক (গান)

গান- মেরুন সন্ধ্যালোক
কথা- গৌতম চট্টোপাধ্যায় ও রঞ্জন ঘোষাল
সুর- গৌতম চট্টোপাধ্যায়


রেকর্ড 

প্রথম প্রকাশ- ১৯৭৭
অ্যালবাম- সংবিগ্ন পাখিকূল ও কলকাতা বিষয়ক
শিল্পী-  মহীনের ঘোড়াগুলি (গৌতম চট্টোপাধ্যায়, সহ শিল্পী- তাপস দাস, তপেশ বন্দ্যোপাধ্যায়, প্রদীপ চট্টোপাধ্যায় ও রঞ্জন ঘোষাল, লিড গিটার- গৌতম চট্টোপাধ্যায়)

কথা

দিন চলে যায় সন্ধ্যা বেলায়
বসে একা উদাস হাওয়ায়,
যতো ভাবি সুর বন পথ দূর
সুবাসী বায়ে, মহুয়া-মুকুল।

বেঁকে গেছে পথ গভীর বনে
মাতাল করে বিহন জনে,
ভেসে আসে গান সাঁঝুলি আলোয়
মহুয়া-মেদুর, শিমুলিয়া সুর।


ভেসে আসে কলকাতা (গান)

গান- ভেসে আসে কলকাতা
কথা- রঞ্জন ঘোষাল ও তাপস দাস
সুর- গৌতম চট্টোপাধ্যায় ও তাপস দাস


রেকর্ডিং

প্রথম প্রকাশ- ১৯৭৭
অ্যালবাম- সংবিগ্ন পাখিকূল ও কলকাতা বিষয়ক
শিল্পী-  মহীনের ঘোড়াগুলি (তাপস দাস ও তপেশ বন্দ্যোপাধ্যায়, লিড গিটার- গৌতম চট্টোপাধ্যায়)

কথা

ভেসে আসে কলকাতা কুয়াশা-তুলিতে আঁকা
শহরতলির ভোর মনে পড়ে
কাঠচাঁপা আর কৃষ্ণ-চূড়ার শৈশব শুধু খেলা করে
স্মৃতির ভেতর ট্রামের ধ্বনি বিবাগী সুর গড়ে
এই প্রবাসে ক্যালেন্ডারের পাতাই শুধু ঝরে
কলকাতা - ও - কলকাতা।

গুলতি ছোঁড়া ঘুড়ি ওড়ার
অগস্ট দুপুর কে দেবে ফিরে
পরবাসের হৃদয় জুড়ে এই অভিমান শুধু ভ'রে
স্টিমার ঘাটের ভোঁ কেন আজ আবার উদাস করে
ভেসে আসে কলকাতা শুধু কুয়াশার ভোরে
কলকাতা - ও - কলকাতা।